হাসপাতালের লিফটেই সন্তানের জন্ম, মা ও শিশুর সব চিকিৎসার দায়িত্ব নিল বিএম হাসপাতাল
প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছিলেন মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী। হাসপাতালে পৌঁছামাত্রই কোনো উপায় না দেখে ভবনের লিফটের পাশেই শুয়ে পড়েন তিনি। বিষয়টি দেখতে পেয়ে তড়িঘড়ি করে চারপাশ কাপড় দিয়ে ঘিরে নিরাপদ প্রসবের ব্যবস্থা করেন নার্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শুধু প্রসব করানোই নয়, ফুটফুটে নবজাতক ও প্রসূতির চিকিৎসার সমস্ত খরচ বহনের পাশাপাশি তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ঘটনাটি ঘটে গত ৭ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টায়। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মারাত্মক পেট ব্যথা নিয়ে ওই নারী হাসপাতালে আসার পরপরই প্রসব বেদনায় ছটফট করতে থাকেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে উপস্থিত দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও নার্সরা তৎক্ষণাৎ কাপড় দিয়ে চারপাশ ঢেকে সেখানেই সন্তান প্রসবের ব্যবস্থা করেন।
সফল ডেলিভারির পর নারীকে পরিচয় জিজ্ঞেস করা হলে তিনি এলোমেলো ও অসংলগ্ন উত্তর দিতে থাকেন। উনার সাথে ৮-৯ বছরের একটি ছেলেও ছিল। কোনো অভিভাবক না থাকায় এবং প্রসূতির মানসিক অবস্থা দেখে প্রথমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়লেও, পরবর্তীতে সম্পূর্ণ মানবিক বিবেচনায় প্রসূতিকে ভর্তি নেওয়া হয়। একই সঙ্গে নবজাতকের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে দ্রুত এনআইসিইউ-তে (NICU) ভর্তি করা হয়।
এর পাশাপাশি মা ও সঙ্গে থাকা শিশুটির খাবারের সার্বিক ব্যবস্থা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একই দিন রাত ১১টার পর বিষয়টি জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ এবং মীরসরাই উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাবরিনা রহমান লিনাকে অবহিত করা হয়। রাত বাড়ার একপর্যায়ে খবর পেয়ে নবজাতকের বাবাও হাসপাতালে উপস্থিত হন।
পরদিন সকালে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাবরিনা রহমান লিনা হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে প্রসূতির পরিবার, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে কথা বলেন। পরে তিনি এনআইসিইউ-তে গিয়ে শিশুটির শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। দায়িত্বরত চিকিৎসকের পরামর্শে নবজাতককে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের 'NICU Ambulance' যোগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণের ব্যবস্থা করা হয়।
নবজাতকের বাবার চরম আর্থিক অসচ্ছলতার কথা বিবেচনা করে সন্তান প্রসব, হাসপাতালে ভর্তি, প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র, খাবার এবং অ্যাম্বুলেন্স ভাড়াসহ যাবতীয় চিকিৎসা সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।