রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

মীরসরাইয়ে তিন দিনব্যাপী বই পড়া উৎসব সম্পন্ন

চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে প্রবীণদের বই পাঠ, শরতের কবিতা আবৃত্তি ও বাউল গানের মনোজ্ঞ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে তিন দিনব্যাপী বই পড়া উৎসব।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে মীরসরাই পৌরসভার পূর্ব গোভানিয়ায় অবস্থিত রোকেয়া সাত্তার স্মৃতি পাঠাগার প্রাঙ্গণে উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

‘যুগান্তর স্বজন সমাবেশ’ মীরসরাই উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মীরসরাইয়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও মীরসরাই পৌরসভার প্রশাসক তানভীরুল কাদের।

বক্তব্যে তিনি বই পড়ার প্রতি মানুষকে উৎসাহিত করতে এ ধরনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং পাঠাগারের চারপাশের এলাকার সার্বিক উন্নয়নে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

উৎসবের শেষ দিনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও জীবনানন্দ দাশের প্রকৃতিবিষয়ক কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে শরতের বন্দনায় মুখর হয়ে ওঠে পাঠাগার প্রাঙ্গণ। এ সময় বিভিন্ন কবি তাঁদের স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন। পরে উৎসবে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী পাঠকদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল চট্টগ্রাম থেকে আসা সুজন বাউল ও শুভশ্রীর লালনসংগীত পরিবেশনা। তাঁদের পরিবেশনায় মুগ্ধ হন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা।

প্রফেসর আকতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা কবি ও সাংবাদিক মাহবুব পলাশ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মীরসরাই প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি নুরুল আলম, উপজেলা প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত সভাপতি রাজিব মজুমদার, প্রফেসর সামছুন্নাহার, চট্টগ্রাম থেকে আগত কবি ও লেখক আলমগীর হোসেন, কবি ও সমাজসেবক রাফিয়া ডলি, কবি ও লেখক নিগার সুলতানা, কবি রেহেনা আক্তার, কবি শাহাদাত হোসেন লিটন, লুৎফুল কবির ভূঞা, মাস্টার হোছাইন সবুজ, কবি ও শিক্ষক শিউলি বড়ুয়া, কবি ও শিক্ষক শাহীন মীর শাহিন, মাস্টার মাজহারুল হক, মাওলানা আলাউদ্দিন, তাছলিমা চৌধুরী সুরভী, মো. আলমগীর হোসেন, জলিল মাস্টার, শক্তি মজুমদার ও মুসলিম উদ্দিন।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন সাংবাদিক নাছির উদ্দিন, সাংবাদিক ইমাম হোসেন, জাবেদ হোসাইন, শিহাব উদ্দিন শিবলু, আজমল হোসেন, হারাধন চক্রবর্তী, রাকিবুল হাসান, তাবিবুর রহমানসহ অনেকে।

বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, সাহিত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করার মধ্য দিয়ে উৎসবটি শেষ হয়।