সাংবাদিকদের আর্থিকভাবে দুর্বল রেখে স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ফেনী এলজিইডি কার্যালয়ের কামরুল ইসলাম সিদ্দিক মিলনায়তনে পিআইবির উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘মাল্টিমিডিয়া, এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং’ প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ফারুক ওয়াসিফ বলেন, “সাংবাদিককে গরিব রেখে স্বাধীন সাংবাদিকতা অসম্ভব।” বর্তমান সরকারের সক্রিয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পিআইবি অন্যতম। গেল নির্বাচনে মিথ্যা তথ্য ও গুজব প্রতিরোধ করাও পিআইবির অন্যতম লক্ষ্য ছিল।
তিনি বলেন, মফস্বল সাংবাদিকতার স্বর্ণযুগ আমরা হারিয়েছি। সাংবাদিকদের পেশাগত বিভিন্ন প্রতিকূলতা মোকাবিলায় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।
মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাংবাদিকদের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে পিআইবি মহাপরিচালক বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ১৩ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। আর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শেষ নয় দিনে পাঁচজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।
ফারুক ওয়াসিফ আরও বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত মান, নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন ও কার্যকর জাতীয় মিডিয়া কমিশন গঠন করা সময়ের দাবি।
সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর সভাপতি সিদ্দিক আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন ফরায়েজি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফেনী জজকোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন খান, পিআইবির প্রশিক্ষক জিলহাজ উদ্দিন নিপুন, দৈনিক সংগ্রামের জেলা প্রতিনিধি এ কে এম আবদুর রহীম, দৈনিক অজেয় বাংলার সম্পাদক শওকত মাহমুদ ও দৈনিক স্টার লাইনের নির্বাহী সম্পাদক মো. মাঈন উদ্দিন।
প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে বক্তব্য দেন পরশুরাম প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ হাসান এবং দৈনিক সোনালী কণ্ঠের পরশুরাম উপজেলা প্রতিনিধি রোসনা আক্তার রুমি।
আলোচনা শেষে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া সাংবাদিকদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন।
আয়োজকরা আরো জানান, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে সাংবাদিকতাকে সময়োপযোগী করতে মাল্টিমিডিয়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ফ্যাক্ট চেকিং বিষয়ে দক্ষতা অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাংবাদিকদের তথ্য যাচাই, বস্তুনিষ্ঠ ও মানসম্পন্ন প্রতিবেদন তৈরির সক্ষমতা বাড়বে। পাশাপাশি এআইয়ের কার্যকর ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের মাধ্যমে সাংবাদিকতায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।