শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

“আমাদের আবার দিবস কী—কাজ করলে ভাত, না করলে নাই” শ্রমিকদের মুখে জীবনসংগ্রামের গল্প

জাহিদুল আলম রাজন

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলার শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে কথা হয়। নোয়াখালী, খুলনা, বরিশাল ও যশোরসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা এই শ্রমিকদের জীবনে দিবসের আনুষ্ঠানিকতা থাকলেও বাস্তবতায় তাদের প্রতিদিনের সংগ্রাম একটাই—বেঁচে থাকা।

উৎসব, ব্যানার আর শোভাযাত্রার বাইরে দাঁড়িয়ে তাদের জীবনের গল্প যেন একটাই সত্যকে ঘুরে ফিরে মনে করিয়ে দেয়—কাজই তাদের একমাত্র ভরসা।

“রফিকুল ইসলাম” (নোয়াখালী, নির্মাণ শ্রমিক) তিনি বলেন, “মে দিবস আসে আবার চলে যায়। আমাদের জীবনে তেমন কোনো পরিবর্তন হয় না। আসল কথা হইলো—কাজ করলে পেটে ভাত জোটে, না করলে ঘরে চুলা জ্বলে না। আমাদের কাছে দিবস না, কাজটাই সব।”

“সোহেল মিয়া” (খুলনা, রিকশাচালক)তিনি জানান, “আমরা তো ভাই দিন আনি দিন খাই মানুষ। আজ কাম করলে খামু, না করলে ঘরে কিছুই নাই। দিবস আমাদের জন্য না, পেটের চিন্তাটাই আসল।”

“করিম উদ্দিন” (বরিশাল, রাজমিস্ত্রি সহকারী) তিনি বলেন, “মজুরি সবসময় ঠিকমতো পাই না। মালিক যা দেয়, সেইডাই নিতে হয়। বেশি কথা কইলে কাম হারানোর ভয় থাকে। তাই চুপচাপ কাম করি।”

“আলমগীর হোসেন” (যশোর, দৈনিক মজুর) তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা বড় কিছু চাই না। শুধু চাই কাম থাকুক আর ন্যায্য মজুরি দেউক। জীবনটা যদি একটু স্থির হইতো, তাইলে শান্তি পাইতাম।”

“জসিম উদ্দিন” (খুলনা, নির্মাণ শ্রমিক) তিনি বলেন,“ভবিষ্যৎ নিয়া ভাবার সময় নাই। আজকের দিনটা কেমনে যাইবো সেই চিন্তাই করি। তবে একটা আশা আছে—আমার পোলাপান যেন এই কষ্টের জীবন না পায়।”

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের এই প্রেক্ষাপটে মাঠপর্যায়ে কথা বলা শ্রমিকদের বক্তব্য থেকে যে বাস্তবতা উঠে এসেছে, তা সত্যিই গভীর ও ভাবনার বিষয়। উন্নয়ন, অগ্রগতি আর জাঁকজমকপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতার বাইরে দাঁড়িয়ে দেখা যায় একদল মানুষের নীরব সংগ্রাম, যাদের জীবনের প্রতিটি দিনই একেকটি যুদ্ধ।

এই শ্রমজীবী মানুষগুলোর কণ্ঠে স্পষ্ট হয়ে ওঠে—তাদের কাছে দিবস নয়, বরং প্রতিদিনের কাজই বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা। “কাজ করলে পেটে ভাত জোটে, না করলে নাই”—এই একটি বাক্যেই তাদের জীবনের বাস্তবতা, দুঃখ-কষ্ট ও অনিশ্চয়তা প্রতিফলিত হয়।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন শুধু সহানুভূতি নয়, বরং কার্যকর উদ্যোগ। ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ, স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি। সরকারের ধারাবাহিক সহযোগিতা ও বাস্তবমুখী নীতিমালার মাধ্যমে এই শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব। কারণ এই শ্রমিকদের ঘামই দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নের মূল ভিত্তি।

 

লেখা- জাহিদুল আলম রাজন 

         সম্পাদক ও প্রকাশক  

          ফেনীর টাইমস.কম