বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে কনডমের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে কনডমের দাম বড় পরিসরে বাড়তে চলেছে। বিশ্বের শীর্ষ কনডম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়ার ‘কারেক্স বারহাদ’ জানিয়েছে, তারা পণ্যের দাম ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী বলেছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে এই দাম আরও বাড়তে পারে। খবর রয়টার্সের।কেন বাড়ছে দাম?কারেক্স-এর প্রধান নির্বাহী গোহ মিয়াহ কিয়াত রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের ফলে পণ্য পরিবহণ বা জাহাজ ভাড়া অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে খুবই নাজুক ও খরচ অনেক চড়া। এই মুহূর্তে বাড়তি খরচের বোঝা গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।’ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই সিন্থেটিক রাবার, নাইট্রাইল, প্যাকেজিং সামগ্রী, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল ও সিলিকন তেলের মতো কাঁচামালের দাম হু হু করে বাড়ছে। ইরান যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে পেট্রোকেমিক্যাল প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় এই উৎপাদন সংকট তৈরি হয়েছে।কারেক্স বছরে ৫০০ কোটিরও বেশি কনডম উৎপাদন করে। প্রতিষ্ঠানটি ডিউরেক্স ও ট্রোজানের মতো ব্র্যান্ডের পাশাপাশি ব্রিটেনের এনএইচএস এবং জাতিসংঘের বৈশ্বিক সহায়তা কর্মসূচিতেও পণ্য সরবরাহ করে। ফলে কনডমের দাম বাড়লে বৈশ্বিক পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিগুলো বড় ধরনের আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।মজার বিষয় হলো, একদিকে সরবরাহ কমছে, অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে কনডমের চাহিদা প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পণ্য পরিবহণে বিলম্বের কারণে আগে যেখানে মালয়েশিয়া থেকে ইউরোপ বা আমেরিকায় পণ্য পৌঁছাতে এক মাস লাগত, এখন সেখানে দুই মাসের বেশি সময় লাগছে।
গোহ মিয়াহ কিয়াত জানান, অনেক উন্নয়নশীল দেশে বর্তমানে কনডমের পর্যাপ্ত মজুত নেই। হাজার হাজার পণ্যবাহী জাহাজ সমুদ্রে আটকে থাকায় সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না, যা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।