গণপিটুনি বা মব জাস্টিস নয়, বিচার করার একমাত্র অধিকার আদালতের
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো আইনের শাসন। এখানে আইন প্রণেতা ও জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব আইন প্রণয়ন করা এবং তার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা কাউকে শাস্তি দেওয়া তাদের কাজ নয়। একইভাবে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সংগঠনেরও কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করে শাস্তি দেওয়ার অধিকার নেই।
আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, গণপিটুনি বা মব জাস্টিস কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়; বরং এটি নিজেই একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজে অপরাধী কে, সে অপরাধ করেছে কি না এবং তার কী শাস্তি হবে—এসব নির্ধারণের একমাত্র বৈধ ও সাংবিধানিক কর্তৃত্ব আদালতের।
বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৪১ ধারায় বেআইনি সমাবেশের সংজ্ঞা, ১৪৩ ধারায় বেআইনি সমাবেশে অংশগ্রহণের শাস্তি, ১৪৭ ও ১৪৮ ধারায় দাঙ্গা এবং অস্ত্রসহ দাঙ্গার শাস্তি এবং ১৪৯ ধারায় বেআইনি সমাবেশের সদস্যদের যৌথ দায়বদ্ধতার বিধান রয়েছে। ফলে কোনো সংঘবদ্ধ জনতা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে অপরাধ সংঘটিত করলে সংশ্লিষ্ট সবাই আইনের আওতায় আসতে পারেন।
এছাড়া মব জাস্টিসের ঘটনায় কেউ আহত হলে দণ্ডবিধির ৩২৩ ও ৩২৫ ধারায় মামলা হতে পারে। আর গণপিটুনি বা বেআইনি হামলায় কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ৩০২ ধারায় হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হতে পারে, যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারহীনতা বা প্রতিশোধপরায়ণতা কখনো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে না। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। তাই মব জাস্টিস নয়, আইনের শাসন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা রাখাই একটি সভ্য সমাজের পরিচয়।