মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

ফেনীতে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা : 'সম্ভাব্য দূর্যোগ মোকাবেলায় সরকারি ও স্বেচ্ছাসেবীদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির নির্দেশ'

দেশে টানা বৃষ্টির পাশাপাশি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ভারী বর্ষণ হলে ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। 


গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টির ফলে জেলার নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি দপ্তর ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে প্রয়োজনীয় আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


​আজ মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) বিকেলে ফেনী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এক জরুরি সভায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।


​সভায় সভাপতিত্ব করেন ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক। তিনি বলেন, জেলায় গত ৩-৪ দিন ধরে টানা বৃষ্টি হওয়ায় আমরা জরুরি ভিত্তিতে এই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা ডেকেছি। সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে এখন থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।


​সভায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে জেলার নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে সীমান্তবর্তী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে যদি ভারী বৃষ্টিপাত হয়, তবে যেকোনো সময় ফেনীসহ আশপাশের এলাকা প্লাবিত হতে পারে।


​দুর্যোগের আগাম প্রস্তুতি নিয়ে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মাহবুব আলম জানান, বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলে তা মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।


​জরুরি এই সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. দিদারুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকার, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুলতানা নাসরীন কান্তা, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. দেলোয়ার হোসেন এবং জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আতিক উল্যাহ।


​এছাড়াও সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জিএম মুহাম্মদ নুরুল হোসাইন, দৈনিক ফেনীর সময় সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সেক্রেটারী সালাহ উদ্দিন মামুনসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য ও সাংবাদিকবৃন্দ।