মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

"সমসাময়িক রাজনীতি" গুপ্ত রাজনীতি শেষ কোথায়?

৫ আগষ্ট বাংলাদেশের রাজনীতি আকাশে একটি ঐতিহাসিক বিজয়ের দিন। দীর্ঘ ১৭ বছর অবৈধ আওয়ামী লীগের শোষনের অবসান হয়েছে বাংলাদেশের গনতান্ত্রিক ছাত্র জনতার রক্তস্নাত আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে। যতদিন রইবে পদ্না মেঘমা যুমনা নদী বহমান, ততদিনে ই বাংলার ইতিহাস এই গনতান্ত্রিক ছাত্র জনতার আন্দোলন ইতিহাস শ্রদ্ধা সহিত ইতিহাস হয়ে রইবে। ৩৬ জুলাই বিপ্লব একটা নাম নয় শুধু বরং পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাসে স্বৈরাচারী বিরোধী সুদীর্ঘ আত্নত্যাগের বিপ্লবী ইতিহাস অংশবিশেষ। ৫ আগষ্টের পূর্বে আমি রাজনীতিতে গুপ্ত নামক কোন শব্দ যুগল বিশ্লেষণ দেখতে পায়নি কিংবা গুপ্ত রাজনীতি সম্পর্কে অবগত ছিলাম না। কিন্তু বর্তমান রাজনীতিতে সমসাময়িক সময়ে গুপ্ত একটা বিশেষ অধ্যায় পরিগনিত হল। গুপ্ত সহজসরল ব্যাখ্যা হল নিজেকে অন্যের অন্তরালে লুকিয়ে রেখে পরিচয়হীন পরগাছা মতো অপরাজনীতি এগিয়ে চলা। গুপ্ত সারমর্ম হলো সহজসরল সমীকরণে সুবিধাবাদী শ্রেণীগোষ্ঠী। এদের মূল চরিত্র হল নিজেকে সর্বসাকুল্যে নিরাপদ রেখে, নিজের পরিচয় উদ্দেশ্য গোপন রেখে অন্যের উপর ভর করে সুনিরাপদে নিজের আত্নকেন্দ্রীক উদ্দেশ্য সফলভাবে বাস্তবায়ন করা। এককথায় ধরে না ছুড়ে সমুদ্রের পানি! কিন্তু সর্বশেষ সমুদ্র বিজয়ের লোকগল্পের মতোই। ৫ আগষ্টের পর স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের পতনের পর তাহাদের আশ্রয় লুকিয়ে থাকা গুপ্ত চেহারা গুলো প্রকাশ্যে নিজেদের বিপ্লবী হিসেবে জাহির করে রাজনৈতিক পায়দা লুটেপুটে নেওয়ার এক ব্যর্থ অপচেষ্টা আজ পর্যন্ত লিপ্ত। সামগ্রিক দিক হতে এরা আজ সমাজে বিপ্লবী হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতেই গর্ববোধ করে। আদৌ এরা কি বিপ্লবী? জনগনের তরে আমার আমার প্রশ্ন রইল? এরা আদৌ বিপ্লবী নহে বরং এরাই ছিল স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী দোসর, স্বৈরাচারী শাসন আমলকে দীর্ঘ করার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক। ৩৬ জুলাই বিপ্লব বিজয় অর্জিত না হলে, এদের অনেকেই আজ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, যুবলীগ সহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়ে স্বৈরাচারী সরকার কে ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে যেত এবং চিরদিনের জন্য বাংলাদেশের গনতন্ত্র ও বাক স্বাধীনতা হরনের ব্যর্থ অপচেষ্টা লিপ্ত থাকতো। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশের আপমর ছাত্র জনতা, কৃষক, শ্রমিক, সাধারণ গনতান্ত্রিক জনগনের তীব্র গন প্রতিরোধ মুখে একটি ঐতিহাসিক বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে স্বৈরাচারী শোষনের পতন সুনিশ্চিত হয়েছে। এই বিজয় কোন একক ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠী সফলতা নয় বরং সমগ্র বাংলাদেশের গনতান্ত্রিক আন্দোলন অংশগ্রহণ কারী বিপ্লবী ছাত্র জনতা জনগনের বহুমাত্রিক বিজয়ের সফলতা। এই গনতন্ত্রের ধারাকে অব্যহিত রাখতে হলে সমগ্র বাংলাদেশ ছাত্র জনতা কে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিগত দিনে স্বৈরাচারী দোসরদের আশ্রয়ে লুকিয়ে থাকা গুপ্ত অপরাজনীতি ধারক বাহকদের শিখড় সমূলে ধংস করে পেলতে হবে। নয়তো গনতান্ত্রিক বাংলাদেশের রাজনীতি সামনে এগিয়ে চলার পথে গুপ্ত হবে সর্বোচ্চ প্রতিবন্ধক। এই সকল স্বৈরাচারী গুপ্ত আজ মিশে গেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে, সরকারী দলে, সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা, ব্যবসায়ী শ্রেনী, সমাজসেবক, সুশীল সমাজ, আমলাতন্ত্রে বিভিন্ন শাখা প্রশাখার মধ্যে দিয়ে। গুপ্ত কোন দল নেই, নেই কোন আদর্শ, নেই কোন দেশপ্রেম। এরা গনতান্ত্রিক বাংলাদেশে এগিয়ে যাওয়ার পথে সবসময়ই বিভিন্ন গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক দলের অন্তরালে নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে অপ্রচার লিপ্ত। তাই বাংলাদেশের সকল গনতান্ত্রিক জনগনের প্রতি আহবান এই সকল গুপ্ত রাজনীতি ধারক বাহকদের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী আদর্শ অনুপ্রাণিত হয়ে গন প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। এরা গনতন্ত্রের শত্রু৷ গুপ্ত রাজনীতি মুক্ত গনতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে আমরা বদ্ধ পরিকর। (ধারাবাহিক ভাবে চলবে)
 

আহসান কামরুল মজুমদার, সহ সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ফেনী জেলা।