ফেনী সরকারি কলেজের অনার্স বিভাগের ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর দক্ষিণখানের আশকোনায় শিরিনা আক্তার (২৩) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত শিরিনা আক্তার ফেনী সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।
এ ঘটনায় তার স্বামী ওহিদুর রহমান অন্তরকে (৩১) আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে দক্ষিণখানের আশকোনা এলাকার ৫৫০ নম্বর বাড়ির একটি কক্ষের দরজা ভেঙে শিরিনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
দক্ষিণখান থানা পুলিশ জানায়, শিরিনাকে কক্ষের ভেতরে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায়। ওই সময় তার স্বামী অন্তরও বাসায় ছিলেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অন্তরকে আটক করে।
পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জামিল হোসেন বলেন, ‘রুমের দরজা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থায় শিরিনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিরিনার গলায় ইউ আকৃতির দাগ পাওয়া গেছে। তবে দৃশ্যমানভাবে অন্য কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আগের রাতেই ঝগড়া, পরদিন মরদেহ
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার আগের রাতেও শিরিনা ও তার স্বামীর মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। এরপর রাতেও তিনি স্বামীর সঙ্গেই ছিলেন। পরদিন দুপুরে বাসার কক্ষ থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
শিরিনার ভাই আরাফাত আহমেদ অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার বোনের সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরোধ চলছিল। তার দাবি, বিয়ের সময় শিরিনাকে দেওয়া স্বর্ণালঙ্কারও অন্তরের মামা-মামি রেখে দিয়েছিলেন।
আরাফাতের আরও অভিযোগ, কয়েক দিন আগে শিরিনার গ্রামের বাড়িতে অন্তরের পরিবারের লোকজন হামলা চালায়। এ ঘটনায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ তাদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমার বোন বাড়িতেও শান্তিতে থাকতে পারেনি। তাকে বিরক্ত করা হতো। ঢাকায় আসার পরও তাকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া হয়নি।
শিরিনার ভাই আরও অভিযোগ করেন, আগের হামলার সময় তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কে ছিলেন শিরিনা?
শিরিনা আক্তার চট্টগ্রামের মীরসরাই থানার জোড়ারগঞ্জ গ্রামের রাজা মিয়ার মেয়ে। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি সংসার করছিলেন।
ফেনী সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের এই শিক্ষার্থীর আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আশকোনার ভাড়া বাসায় স্বামী ওহিদুর রহমান অন্তরের সঙ্গে থাকতেন শিরিনা। অন্তর মীরসরাই থানার মাদবরহাটের জমাদার গ্রামের নুর নবীর ছেলে।
মৃত্যু, নাকি অন্য কোনো রহস্য?
একদিকে কক্ষে ঝুলন্ত মরদেহ, অন্যদিকে ঘটনার আগের রাতের দাম্পত্য কলহ এবং স্বজনদের নানা অভিযোগ—সব মিলিয়ে শিরিনার মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন।
পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে মরদেহের গলায় দাগ ছাড়া দৃশ্যমান অন্য কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি স্বজনদের অভিযোগও তদন্ত করে দেখা হবে।
এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণখান থানা পুলিশ।