শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

ফেনীর চরাঞ্চলে তরমুজে ২৫০ কোটি টাকা বাণিজ্যের সম্ভাবনা

ফেনীর চরাঞ্চলে তরমুজে ২৫০ কোটি টাকা বাণিজ্যের সম্ভাবনা
ফেনীর কৃষি অর্থনীতিতে বড় সম্ভাবনা যোগ করেছে তরমুজ। চরের আবাদি-অনাবাদি জমিতে তরমুজ চাষে ভাগ্য ফিরছে কৃষকদের। চলতি মৌসুমে চাষাবাদ হয়েছে ১৩'শ হেক্টর জমিতে। বৃষ্টি, জোয়ারসহ আবহাওয়া অনুকূলে থাকল ২৫০ কোটি টাকার বেশি তরমুজের ফলন হওয়ার আশা করছেন কৃষি বিভাগ ও মাঠের কৃষকরা৷


জেলার উপকূলীয় জনপদ সোনাগাজীর নদীপাড়ের বিস্তীর্ণ চারাঞ্চল। জোয়ারের লবন পানির শঙ্কায় একসময় অনবাদি পড়ে থাকলেও সেখানেই এখন ফলছে অর্থকরী ফসল তরমুজ।  গাছে এসেছে ফুল, পরিচর্যায় সকাল-দুপুর পার করছেন চাষীরা। রমজানের মাঝামাঝি থেকে ফলন ঘরে তোলার অপেক্ষা।

উপজেলার চরচান্দিয়া, চর দর দরবেশ, সোনাগাজী সদর, নবাবপুর ও আমিরাবাদের মাঠের পর মাঠে উচ্চ ফলনশীল ড্রাগন কিং, জেব্রা কিং, গ্লোরি ড্রাগন, ব্লাক জায়ান্ট, বাংলালিংক,  ব্লাক বেরী, ভিক্টর সুগার ও ওশান সুগারসহ নানা দেশী-বিদেশী জাতেন  তরমুজের আবাদ হয়েছে।

চরের চাষীরা বলছেন, চলতি এ মৌসুমে দ্বিগুন বেড়েছে তরমুজের চাষাবাদ। বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাস না হলে ফলনও ভাল হবে৷ চরের মাটি তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় নতুন অনেকেই চাষাবাদে যুক্ত হচ্ছেন।

চর দরবেশ এলাকার আজগর হোসেন নামের এক চাষী জানান, সোনাগাজীর চরে প্রতিবছর বাড়ছে তরমুজের আবাদ। এর অন্যতম কারণ এখানে উৎপাদন ভাল। ফলের গুনগত মানও ভালো।

সোনাগাজীর আদর্শগ্রামে রফিক উদ্দিন নামের আরেক চাষীর সাথে কথা হয়। তিনি জানান, পাশের জেলা সুবর্ণচর থেকে তিনি এসেছেন তরমুজের আবাদ করতে। এখানের মাটির গুনগত মান ভাল হওয়ায় এখানে তরমুজ চাষাবাদ লাভজনক।

সোনাগাজী ছাড়াও জেলার সদর উপজেলার কালিদহ, ধর্মপুর, ছাগলনাইয়ার শুভপুর, ফুলগাজী ও পরশুরাম, দাগনভূঞাঁর কিছু অঞ্চলেও বেড়েছে তরমুজের আবাদ। কৃষকও সংশ্লিষ্টরা জানান, বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ না থাকলে চলতি মৌসুমে ফেনীতে তরমুজের উৎপাদন অন্য যেকেনো বছরের রেকর্ডকে অতিক্রম করবে।

তবে চরের চাষীরা বলছেন ২৪'র বন্যায় মুসাপুর ক্লোজার ভেঙে যাওয়ার পর থেকে লবন পানির জোয়ারের কারণে চাষাবাদে ক্ষতির সমুক্ষীণ হচ্ছেন তারা। তরমুজ নিয়েও রয়েছে দুশ্চিন্তা। ক্লোজারটি পূন:নির্মাণের দাবী তাদের।

সোনাগাজীর কোম্পানী বাজার সংলগ্ন মাঠের কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন, ক্লোজারটি ভেঙ্গে যাওয়ার পর থেকে প্রায় সময় সাগরের নোনাপানি ফসলের জমিতে উঠে ফসল নষ্ট করে। তরমুজের জন্য বড় ঝুঁকি এ লবন পানি।

কৃষি বিভাগও জানায় বিগত বছরগুলোর চাইতে জেলায় বেড়েছে তরমুজের আবাদ। সবচেয়ে বেড়েছে সোনাগাজী উপজেলায়। এখানকার চরের ১১'শ হেক্টরের বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে রসালো এই ফল। অন্য উপজেলাগুলোতেও আবাদ বেড়েছে। তবে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে জোয়ারের লবন পানি প্রবেশ নিয়ে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফেনীর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ বলেন, গেল মৌসুমে ফেনীতে তরমুজের আবাদ হয়েছিলো ৭৭৪ হেক্টর। চলতি মৌসুমে তরমুজের আবাদ হয়েছে ১২৯৯ হেক্টর। আবাদ বেড়েছে ৫২৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫১৯৬০ মেট্টিক টন। 
গেল মৌসুমে ফেনীতে আবাদকৃত তরমুজের বাজার ছিলো প্রায় ১'শ ৫০ কোটি টাকার। প্রতিকেজী কমপক্ষে ৫০ টাকা করে হলেও চলতি মৌসুমে তা  ছাড়িয়ে ২৫০ কোটি টাকার বেশি হবার আশা সংশ্লিষ্টদের।

২০১৭ সালে সোনাগাজীর চর দরবেশ ইউনিয়নে পরীক্ষামূলকভাবে তরমুজের আবাদ শুরু করে এক কৃষক। ক্রমান্বয়ে ফলটির চাষাবাদ বাড়তে থাকে। বর্তমানে মৌসুমে এর বাজার আড়াইশো কোটি টাকার বেশী।