শনিবার, ৯ মে ২০২৬

বিদ্যালয়ের পরীক্ষা বন্ধ করে ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির ভোট, সমালোচনার ঝড়

ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে ভোটগ্রহণের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষা। পরীক্ষার আগের রাতে অনলাইনে ও বিদ্যালয়ের গেটে নোটিশ দিয়ে হঠাৎ করে স্থগিত করা হয় প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত গনিত বিষয়ের পরীক্ষা। স্বল্প সংখ্যক অভিভাবক পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে জানলেও বেশিরভাগ তা জানেননি। এ কারনে শনিবার (০৯ মে) শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা স্কুলে গিয়েও ফিরে যেতে হয়েছে। যদিও বিদ্যালয়ের ৬ শিক্ষকের হাজিরা চলছে ঠিকই। স্থগিত হওয়া পরীক্ষা কখন অনুষ্ঠিত হবে তাও জানানো হয়নি স্কুল কতৃপক্ষ থেকে। এ নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন ফেনী সেন্ট্রাল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকশ অভিভাবক ও শিক্ষার্থী। ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় দেখা দিয়েছে সাধারণের মাঝেও। ফেনী সেন্ট্রাল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শাহানা আমিন জানান, সকাল ১০ টা থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৪শ'র বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষার্থী গনিত বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা ছিলো। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে পরীক্ষা স্থীগত করা হয়। তিনি আরও জানান, একই ক্যাম্পাসে হাই স্কুল থাকায় আগে থেকেই তারা ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনের জন্য অনুমতি দেন। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা কেন্দ্র থেকে ফিরে যাওয়ার ঘটনা স্বীকার করে তিনি বলেন স্থগিত পরীক্ষার জন্য নতুন প্রশ্নপত্র তৈরি করে নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হবে । সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রমজানে বন্ধ থাকার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ৫ শনিবার বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেয় সরকার।তারই ধারাবাহিকতায় এদিন জেলার ৫৩৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে একটি বাদে সব বিদ্যালয়ে গনিত বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। একই ক্যাম্পাসে থাকা ফেনী সেন্ট্রাল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো: গিয়াস উদ্দিন জানান, শনিবার বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় নির্বাচনের ভেনুর জন্য অনুমতি দেয়া হয়। প্রাথমিকের হঠাৎ পরীক্ষা বন্ধ হওয়া নিয়ে তিনি বলেন এটি সত্যি বলতে দু:খজনক। এ নিয়ে বক্তব্য জানতে ফেনী সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খালেদা পরাভিন ও সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম হাজারীর মোবাইলে একাধিকার কল দিলেও তারা রিসিভ করেননি। প্রসঙ্গত, ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির এডহক কমিটির আহবায়ক ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার আলাল উদ্দিন আলাল ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব। কমিটিতে আছেন জামায়াত নেতা ও সাংবাদিক মোহাম্মদ আবদুর রহিম। নির্বাচনে দুইটি প্যানেলের মধ্যে একটিতে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দিন মিষ্টার, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারীর বড় ভাই ফারুক হারুন। এ প্যানেলে সহ-সভাপতি প্রার্থী আবদুর রহিম জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি। অন্য প্যানেলে সভাপতি পদে নির্বাচন করছেন জিয়া উদ্দিন মিষ্টার এর ছোট ভাই নাছির উদ্দিন মিলন, সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করছেন ফেনী পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মুশফিকুর রহমান পিপুল। এছাড়া এডহক কমিটির আহবায়ক আলাল এবং দুই প্যানেলের সভাপতি ও সম্পাদক মিষ্টার-হারুন আর মিলন-পিপুল এরা সবাই কেউ কারো আপন ভাই আর চাচাতো জেঠাতো ভাই। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২৭টি পদের বিপরীতে মোট ৫৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে দুইটি প্যানেলে ২৭ জন করে ৫৪ জন এবং স্বতন্ত্র ২ জনের মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়। পরে তিনজন মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন মোট ৫৩ জন প্রার্থী। নির্বাচনে মাছ প্রতীকে জিয়া উদ্দিন মিষ্টার-ফারুক হারুন পরিষদ এবং ছাতা প্রতীকে নাছির উদ্দিন মিলন-মুশফিকুর রহমান পিপুল পরিষদ পূর্ণাঙ্গ প্যানেল নিয়ে অংশ নিচ্ছে। এছাড়া সভাপতি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে গোলাম মাওলা আনারস প্রতীক এবং সদস্য পদে মোস্তাফিজুর রহমান হারিকেন প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে মোট ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ৮৬০ জন। ২৭টি শাখা কমিটির আওতাভুক্ত এসব ভোটার তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। নির্বাচনে একজন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ১০ জন নির্বাচন কমিশনার ও ২০ জন সহকারী নির্বাচন কমিশনারসহ মোট ৩১ জন দায়িত্ব পালন করছেন। ভোটকেন্দ্রে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য অবস্থান করছে। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে কেন্দ্রে প্রবেশের সময় ভোটারদের ভোটার আইডি কার্ড প্রদর্শন করতে হচ্ছে। ফেনী সেন্ট্রাল হাই স্কুল কেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রণ চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।